
বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এক অনুভূতি। ২০১০ সাল থেকে ১ জানুয়ারি বিনামূল্যে বই বিতরণের যে উদ্যোগ চলছে, এবার সেখানে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
প্রাথমিক পর্যায়ের বই মুদ্রণ ও বিতরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটি বই মুদ্রণ এখনো শুরুই হয়নি অনেক লটে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিকের ৮ কোটি ৫৯ লাখ বইয়ের ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলায় পৌঁছে গেছে। বাকি বইয়ের পিডিআইও শেষ পর্যায়ে। প্রাক-প্রাথমিকের ৯৭ শতাংশ বই মুদ্রণ ও বিতরণ শেষ।
অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই মুদ্রণ চুক্তি সম্পাদনে প্রেস মালিকদের গড়িমসিতে কাজ শুরু হয়নি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বহু লটে। নবম শ্রেণির বই মুদ্রণের কাজ কিছুটা এগোলেও সামগ্রিক অগ্রগতি অত্যন্ত কম। ষষ্ঠ শ্রেণির ৯৮ লটের কাজ পাওয়া ২৪ প্রেসের ১৫টি এখনও চুক্তি করেনি। সপ্তম শ্রেণির ৩১ প্রেসের ১৩টি এবং অষ্টম শ্রেণির ৩৮ প্রেসের ৩৩টি চুক্তিহীন রয়ে গেছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ শতাংশে।
প্রেস মালিকরা চুক্তিতে দেরির কারণ হিসেবে ব্যাংক ঋণের সমস্যা, কাগজ সরবরাহে জটিলতা, ডিসেম্বরে নোট-গাইড মুদ্রণে ব্যস্ততা, বাঁধাই শ্রমিকের সংকট ও বিল পরিশোধের ধীরগতি উল্লেখ করেছেন। এসব কারণে জানুয়ারির আগে মাধ্যমিক স্তরের বই বিতরণ নিয়ে শঙ্কা আরও বাড়ছে।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান পাঠান জানিয়েছেন, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রেসকে চুক্তি করতে হবে। চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে বই মুদ্রণ, পিডিআই ও সরবরাহ সম্পন্ন করতে হবে। তার আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে কাজ বিলম্বিত হলে বইয়ের মান নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকের কিছু বইয়ে নিম্নমানের কাগজ পাওয়া যাওয়ায় নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণ সমস্যা ও কাগজ সংকটের কারণে সময়মতো মুদ্রণ শুরু করা যাচ্ছে না। এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, নির্দিষ্ট সময়ে বই বিতরণের জন্য সব ধরনের সমন্বয় চলছে, প্রেস মালিকদের সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই বই বিতরণের চেষ্টা চলছে এবং অনেক বই ইতোমধ্যে গুদামে জমা রয়েছে। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো যাবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply