ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এই মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেন।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আজমল হোসেন জানান, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, যা ঠিক ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রস্তাবক ও সমর্থকদের মধ্যে দেওয়া ১০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র আটজনই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচন বিধি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাসনিম জারার আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
তাসনিম জারা জানিয়েছেন, যে দুই ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে গরমিল পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে একজনের জানার কোনো উপায় ছিল না যে তিনি ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। আরেকজনের ক্ষেত্রে এনআইডির হার্ড কপি অনুযায়ী তিনি ঢাকা-৯ আসনের ভোটার, তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তিনি আসনের ভোটার নন।
তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট মানতে না পেরে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদ ১৯ লাখ টাকার, বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা, আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। কোনো মামলা, ঋণ, দায় বা সরকারি পাওনা নেই। বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। অলংকার আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজের নামে জমা ১০ হাজার ১৯ টাকা, হাতে নগদ ১৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড, স্বামীর হাতে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও ৬ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।
তাসনিম জারার বার্ষিক চাকরির আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৩ টাকা, ব্যাংকে আমানত ২৬৪ টাকা, দেশের বাইরে আয় ৩২০০ পাউন্ড, স্বামীর বিদেশের আয় ৩৯ হাজার ৮০০ পাউন্ড।
জারা পেশায় চিকিৎসক, তার স্বামী উদ্যোক্তা ও গবেষক। জন্ম ১৯৯৪ সালের ৭ অক্টোবর, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। মায়ের নাম আমেনা আক্তার দেওয়ান, বাবার নাম ফখরুল হাসান। তিনি ঢাকার খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।