ইতিহাস কেবল যুদ্ধ আর জয়ের কথা বলে না, ইতিহাস কখনো কখনো নীরব আত্মত্যাগ আর অবিচল আনুগত্যেরও সাক্ষী হয়ে থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তাল সমুদ্রে যখন বারবার ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে, যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবার সম্মুখীন হয়েছে চরম প্রতিকূলতার, তখন ছায়ার মতো এক মহীয়সী নারীর নাম আড়ালে থেকে গেছে- তিনি ফাতেমা। কিন্তু আজ সেই 'গৃহ-পরিচারিকা' পরিচয়ের খোলস ভেঙ্গে ফাতেমা আবির্ভূত হলেন এক নতুন পরিচয়ে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে দিয়েছেন নিজের বোনের মর্যাদা, দিয়েছেন এক আইনি স্বীকৃতি।
দুঃসময়ের এক পরম আশ্রয়ের নাম ‘ফাতেমা’:- তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর অনুপস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন নিঃসঙ্গ প্রহর পার করছিলেন, তখন ফাতেমা কেবল একজন গৃহকর্মী হিসেবে নন, বরং পরম মমতায় আগলে রেখেছিলেন এই মহীয়সী নেত্রীকে। ২০১৮ সালের সেই কারাবরণ ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। যখন প্রিয়জনরা কাছে ছিলেন না, তখন ফাতেমা স্বেচ্ছায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেদন করেছিলেন- "আমি ম্যাডামের সেবা করার জন্য জেলে যেতে চাই।" আইনের রুক্ষ দেয়াল টপকে সেই অনন্য সাধারণ অনুরোধ সেদিন আদালতকেও বিস্মিত করেছিল। ফলাফলস্বরূপ, টানা ৭৭৮ দিন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে তিনি ছিলেন বেগম জিয়ার অতন্দ্র প্রহরী।
ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য অর্ঘ্য ফাতেমা:- তারেক রহমান তাঁর সাম্প্রতিক ঘোষণায় এক বিরল ভ্রাতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানিয়েছেন,"মায়ের শরীর থেকে আজ আমি আমার মায়ের সুবাস পাই ফাতেমার মাঝে। এই ১৮ বছর সে আমার মায়ের ছায়া হয়ে ছিল। তাই তাকে কেবল কাজের মেয়ে হিসেবে রাখা নয়, বরং শহীদ জিয়ার কন্যা এবং আমাদের বোন হিসেবে আমি আইনি স্বীকৃতি দিলাম।"
কাব্যিক চয়নিকায় আনুগত্যের জয়গান চিরো অম্লান:- ফাতেমার এই উত্তরণ কোনো রূপকথা নয়, বরং এটি এক অকৃত্রিম হৃদয়ের বন্ধন। কবিতার ভাষায় যেন বলা চলে- "যেখানে রক্তের টান ফিকে হয়ে আসে ঝোড়ো হাওয়ার ত্রাসে, সেখানে এক চিলতে রোদ হয়ে ফাতেমা ফুঁটেছেন বিশ্বাসের অট্টহাসে।
দাসত্ব নয়, সে যে ভক্তির চরম সীমায় এক অনন্য প্রতিমা, ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রবে আজ কন্যা ফাতেমার মহিমা।"
জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারে নতুন মর্যাদা পেলেন ফাতেমা:- তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী, ফাতেমা এখন থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির আইনি অংশীদার। এটি কেবল সম্পত্তির বন্টন নয়, বরং এটি ত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের আকুল আবেদন- ফাতেমাকে যেন জিয়া পরিবারের একমাত্র কন্যা ও তাঁদের বোনের সম্মান দেওয়া হয়।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে্ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। যেখানে ক্ষমতার দাপটে রক্তের সম্পর্ক ভুলে যাওয়ার নজির রয়েছে, সেখানে এক গৃহপরিচারিকাকে বোনের আসনে বসিয়ে তারেক রহমান যে উদারতার পরিচয় দিলেন, তা সমসাময়িক রাজনীতিতে দীর্ঘকাল আলোচিত ৬হবে। ফাতেমা আজ আর কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি আজ বিশ্বস্ততা আর আনুগত্যের এক জীবন্ত প্রতীক।