ইউক্রেনীয় হামলার কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর পুনরায় তেল রফতানি শুরু করার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ সেন্ট কমে ৬৪.৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮ সেন্ট কমে ৬০.০১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের হামলার কারণে নভোরোসিস্ক বন্দর ও পার্শ্ববর্তী ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনালে তেল রফতানি স্থগিত করা হয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহের প্রায় ২ শতাংশে প্রভাব ফেলে। ফলে শুক্রবার তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী শনিবার রাশিয়ার রিয়াজান ও সামারার নোভোকুইবিশেভস্ক তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা রাশিয়ার তেল সরবরাহ ও বাণিজ্য প্রবাহে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন।
রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানি লুকোয়েলও নতুন সমস্যায় পড়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার সময়সীমা ২১ নভেম্বর শেষ হচ্ছে এবং সুইস সংস্থা গুনভোরের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও ভারতের রুশ তেল আমদানি কমেছে, ফলে এশিয়ার জলসীমায় সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের মজুদ বেড়েছে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলো এখন রাশিয়ার তেলের পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্য ও মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রিপাবলিকানরা এমন একটি আইন তৈরির কাজ করছেন যা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, এবং ইরানকেও সেই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো (ওপিইসি ও ওপেক প্লাস) ডিসেম্বরে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের কর্মকাণ্ড ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ভবিষ্যতের তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।