ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’, যার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও ভোট দিতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নমুনা হিসেবে মিশর, জাপান, আরব আমিরাত, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডস থেকে প্রবাসীদের নিবন্ধন প্রদর্শন করা হয়।
সিইসি বলেন, “পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। প্রবাসীরা জাতীয় নির্বাচনে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, আজ সেই বঞ্চনা দূর হলো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসী ভোটাররা অর্থনৈতিক নাগরিক হিসেবে যেমন ভূমিকা রাখছেন, গণতান্ত্রিক নাগরিক হিসেবে তেমন ভূমিকা রাখা তাদের কর্তব্য।
নিবন্ধন শুরু: ১৯ নভেম্বর থেকে, চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ভোট প্রদানের সময়: ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
অ্যাপ ডাউনলোড: গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Postal Vote BD’।
নিবন্ধন ধাপসমূহ:
অ্যাকাউন্ট তৈরি ও মোবাইল নম্বর যাচাই (ওটিপি)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) হাতে নিয়ে সেলফি তোলা এবং NID-এর ছবি জমা দেওয়া। পাসপোর্ট থাকলে ছবিও দিতে হবে।
বিদেশে বর্তমান ঠিকানার তথ্য প্রদান।
তথ্য যাচাই হলে অ্যাপে ‘আপনি এখন নিবন্ধিত’ বার্তা দেখা যাবে।
নিবন্ধিত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে।
পৃথক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্ধারিত ঠিকানায় তিন খামের মধ্যে ব্যালট পাঠানো হবে।
খামের মধ্যে থাকবে ব্যালট পেপার, আসন নম্বর ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানা।
ভোটার ব্যালট পূরণ করে দ্বিতীয় খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট বক্সে জমা দিবে।
খাম পাওয়ার পর অ্যাপে লগইন, মোবাইল নম্বর যাচাই, সেলফি তোলা এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ভোট চূড়ান্ত করা হবে।
সিইসি বলেন, অ্যাপটি নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—সাইবার নিরাপত্তা, শনাক্তকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি। তিন মাসের মধ্যে এই উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং কমিশন ধীরে ধীরে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটাররা এবার ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবেন, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও বিস্তৃত, প্রতিনিধিত্বশীল ও শক্তিশালী করবে।