1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

ইরানে বড় সামরিক হামলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত হামলার নির্দেশ দেননি, তবুও সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল ভেতরে ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, এখনই নতুন কোনো গণ-নির্দেশনা জারি করা না হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।

মার্কিন সামরিক শক্তিবৃদ্ধির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন। একই সঙ্গে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।

হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্যমতে, ইরানে অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরান এই সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। তার ভাষায়, তেহরান এখন ‘ট্রিগারে আঙুল’ দিয়ে প্রস্তুত এবং যেকোনো উসকানির জবাব হবে পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী।

ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, হামলা সীমিত হোক বা ব্যাপক—প্রতিক্রিয়া হবে সমান কঠোর। এ অবস্থায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে আসছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়তে শুরু করেছে।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!