রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুসারে এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘমেয়াদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সামনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়গুলো আগামী রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি, বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।
এছাড়া বিচারিক সহযোগিতা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি উন্নয়নের মতো বিষয়েও অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি পদে না এলে বিকল্প হিসেবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের নামও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি না হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বা কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা এখনো সম্পূর্ণ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ ও জল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
You cannot copy content of this page