1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও গাজায় শুরু হলো রমজান, শোক ও অনিশ্চয়তার মাঝে মানুষকে টিকিয়ে রাখা লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দুঃখকে সঙ্গী করেই পবিত্র মাস রমজান শুরু হয়েছে গাজাবাসীর। সাধারণত রমজান মুসলিমদের জন্য আনন্দ, পরিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার, আধ্যাত্মিকতা এবং দানের মাস হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু গাজায় বর্তমানে আনন্দের বদলে চলছে শোক, বাঁচার তাগিদে লড়াই এবং প্রতিদিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। চলমান যুদ্ধবিরতির কথাও থাকলেও ইসরায়েল প্রতিদিন তা লঙ্ঘন করছে, ফলে মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গাজা সিটির বাসিন্দা ফেদা আয়্যাদ বলেন, “আমরা প্রিয়জন ও পরিবার হারিয়েছি। এখন আর কোনো আনন্দ নেই। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, হৃদয়ে রমজানের আসল পরিবেশ অনুভব করা যায় না।”

গাজায় রমজান শুরু হয়েছে বুধবার। সাধারণত এই সময়ে মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে রোজা পালন করেন। এছাড়াও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি করেন এবং সাহায্যপ্রাপ্তদের দান পৌঁছে দেন। কিন্তু গাজার পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে কমপক্ষে ৭২ হাজার ৬১ জন মারা গেছেন এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ জন আহত হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে গাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বাজারগুলোতে চাপ অনুভূত হচ্ছে। গাজা সিটির বাসিন্দা ওয়ালিদ জাকজুক বলেন, “মানুষের কাছে নগদ অর্থ নেই। কাজ নেই। সত্যিই এটা রমজান, কিন্তু রমজানের জন্য অর্থ প্রয়োজন।”

রমজানের প্রথম রাতে গাজা শহরের গ্রেট ওমারি মসজিদে মুসল্লিরা তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন। এই মসজিদটি যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে ফিলিস্তিনিরা সাজসজ্জা টাঙাচ্ছেন।

তবুও কিছু ফিলিস্তিনি রমজানের ঐতিহ্য রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। খান ইউনিসে ক্যালিগ্রাফার হানি দাহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার মাঝেও আরবি ভাষায় ‘স্বাগতম, রমজান’ লিখেছেন। তিনি বলেন, “আমরা শিশু, নারী, পুরুষ এবং পুরো পরিবারদের মধ্যে আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমরা এখনও জীবনের জন্য লড়ছি এবং জীবনকে ভালোবাসি।”

মুহাম্মদ তানিরি বলেন, “ধ্বংসাবশেষের মাঝেও সুন্দর সাজসজ্জা শিশুদের আনন্দ দেয়। সমস্ত কষ্ট সত্ত্বেও তারা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে।”

দুই বছরের ইসরায়েলি হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এখন পানির পাত্র ভরার জন্য অপেক্ষা করছেন। ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কম ট্রাক ঢুকতে পারছে। এছাড়াও চুক্তি নিয়মিত লঙ্ঘন হচ্ছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

তবুও, ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও গাজার মানুষরা রমজানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা প্রমাণ করছে, যুদ্ধ ও কষ্টের মাঝেও মানুষ আনন্দ ও জীবনকে ধরে রাখার চেষ্টা করে, বাঁচতে চায়।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!