ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হতে পারে। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত এমপিদের শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট প্রকাশ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করাতে অপারগ হলে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে পারবেন। এ মনোনয়ন প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে হবে।
তিনি আরও জানান, সংবিধানে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ব্যক্তি যদি তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করাতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথবাক্য পাঠ পরিচালনা করবেন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। পাশাপাশি ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় উল্লেখ রয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন, যেন তিনিই এ জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোববার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে যেকোনো দিন শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি থাকায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে এবং সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।