ভারত থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছে তৈরি পোশাক খাত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্ড সুবিধায় ভারত থেকে কম দামে নিম্নমানের সুতা আমদানি হওয়ায় দেশীয় বস্ত্রকলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে এবং ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জানুয়ারি এনবিআরকে চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে বিশেষভাবে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতায় বন্ড সুবিধা বাতিলের কথা বলা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসব সুতার আমদানি ছিল ৩৬ হাজার মেট্রিকটন, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার মেট্রিকটনে। চলতি অর্থবছরেও আমদানি ঊর্ধ্বমুখী।
বিটিএমএ বলছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে খরচ প্রায় ৩ ডলার, যেখানে ভারত একই সুতা উৎপাদন করে ২.৮৫–২.৯০ ডলারে এবং বাংলাদেশে রফতানি করছে মাত্র ২.৫ ডলারে। ফলে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
অন্যদিকে, তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। তাদের দাবি, বন্ড সুবিধায় কম দামে সুতা আমদানি করে পোশাক রফতানি সম্ভব হচ্ছে। এই সুবিধা বন্ধ হলে বহু পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় কম দামে কাঁচামাল আমদানি করেই শিল্পটি টিকে আছে। বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করলে শিল্প ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বহুমাত্রিকভাবে বিশ্লেষণ করে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়