সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা-য় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতের আঁধারে পাথর অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে ডলুরা নদীর পশ্চিম পাড়ে গিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যেগুলো পাথর লোড করে নেওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে নিলামে তোলা ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩২ ঘনফুট পাথরের মধ্যে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩২ ঘনফুট পাথর নিজ খরচে অপসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮টি শর্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এর ৭ নম্বর শর্তে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে পাথর অপসারণ করতে হবে; রাতে কোনোভাবেই পাথর তোলা যাবে না।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শর্ত অমান্য করে রাতের আঁধারে ট্রাকযোগে পাথর সরানো হচ্ছে। নিলামকৃত পাথর সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. শাহজাহান দাবি করেন, রাতে পাথর অপসারণের কোনো সুযোগ নেই। তবে রাতের বেলায় পাথরবাহী ট্রাক চলাচল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, বিভাগের কাগজে রাতে পাথর অপসারণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাতের বেলায় পাথর সরানোর খবর পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকায় শর্ত ভেঙে অতিরিক্ত পাথর অপসারণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়