
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হতে পারবে এবং নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে। সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায় এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাওয়ার প্রত্যাশা করে। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, একটি পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ রয়েছে, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ বসবাস করে। সবার অংশগ্রহণে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। এমন বাংলাদেশ যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশু—যেই হোক না কেন—নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ, প্রায় পাঁচ কোটি শিশু, প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ এবং কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে রাষ্ট্রের কাছে। সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, তবে এই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
বক্তব্যে তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বলেন, আল্লাহর রহমত ও সাহায্য থাকলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আবার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছেন। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বহু মানুষ গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালে তরুণ প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায়। সম্প্রতি ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী সদস্য ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, সবাইকে ধৈর্যশীল ও শান্ত থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর শক্ত দেশ গড়ে তুলতে হবে।
যেকোনো উসকানির মুখে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি মার্কিন অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, তিনি বাংলাদেশের জন্য শান্তি চান এবং দেশের মানুষের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে—যা দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রণীত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply