চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলার উমরপুর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু সুফিয়ান একই উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
আহত সুফিয়ানের মায়ের অভিযোগ, এক স্বজন কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের জেরে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কর্মীরা সুফিয়ানকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
আবু সুফিয়ান জানান, একটি ছেলে তার কিশোরী স্বজনকে উত্ত্যক্ত করছিল—এ কথা বোঝাতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো কথা না শুনে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত–পা কেটে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে ওই কিশোরী স্বজনকে এক যুবক অপহরণ করেছিল। মামলা হলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং যুবককে গ্রেপ্তার করে। জামিনে বেরিয়ে ওই যুবক আবার মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিল। এ কারণে বুধবার বিকেলে উমরপুর ঘাটে তাকে ডেকে শাসাতে গেলে স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক, শাহ আলমসহ কয়েকজন তার পক্ষ নিয়ে সুফিয়ানকে মারতে শুরু করে। রাজ্জাকের দোকানের সামনেই বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
সুফিয়ানের মা সুফিয়া বেগম বলেন, “হার ছেলে হাতজোড় করে বলেছে, হামি দোষী লয়। আমাকে মারবেন না। আগে প্রমাণ লেন হামি দোষী কি না। তবু ওরা হার ছেলের কথা শোনেনি।”
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। তাদের বাড়ি শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামে। রাজ্জাক একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং উমরপুর ঘাটে তার একটি ওষুধের দোকান আছে। সেই দোকানের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।
শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির সাদিকুল ইসলাম দাবি করেন, গ্রেপ্তার দুজন জামায়াতের কর্মী হলেও তারা এ ঘটনায় জড়িত নন। তার ভাষ্য, রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্তসাপেক্ষ এবং নির্বাচনের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। তিনি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কে বিশ্বাস জানান, সুফিয়ানের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, আরও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তবে হাসপাতালে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি; পরে জানা যায় তিনি ঢাকায় চলে গেছেন।
এ বিষয়ে সুফিয়ানের মা বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে পর্যাপ্ত রক্তের জোগাড় না থাকায় অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হয় এবং সেদিন রাতেই তারা ঢাকায় নিয়ে যান।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।