
পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)। ইসলাম ধর্মের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এই পবিত্র রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পালন করছেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
শবে মেরাজ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই মহিমান্বিত ঘটনাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে এ রাতেই প্রিয় নবী (সা.) মানবজাতির কাছে প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায়ের বিধান পৌঁছে দেন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—
“পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, যাতে তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
(সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১)
ইসলামী ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নবুওয়তের দশম বছরে রজব মাসের ২৭ তারিখে এই অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে চড়ে মহানবী (সা.) প্রথমে মক্কা থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের নিয়ে ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন।
পরবর্তীতে তাকে সাত আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি হজরত আদম, ইয়াহইয়া, ঈসা, ইদরিস, হারুন ও মুসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সপ্তম আসমানে তার সাক্ষাৎ হয় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে। এরপর মহান আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যে পৌঁছে নবীজি (সা.) আল্লাহর মহিমা প্রত্যক্ষ করেন এবং সেখানেই উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আদেশ লাভ করেন। একই রাতে তিনি আবার মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মিরাজ মানুষের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সময় ও স্থান মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ হলেও আল্লাহর জন্য তা কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। আল্লাহ চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই মানুষকে পৃথিবী থেকে আসমানের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিতে পারেন।
এ ছাড়া নবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রমাণ করে, পার্থিব মৃত্যুর পরও মানুষের অস্তিত্ব ভিন্ন রূপে টিকে থাকে। দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতের জীবনের মধ্যকার ব্যবধান যেন এই রাতে অনেকটাই ঘুচে যায়।
২৭ রজব পালনের বিষয়ে আলেমদের অভিমত হলো, ইসরা ও মিরাজ উপলক্ষে ইসলামে কোনো নির্দিষ্ট উৎসব, বিশেষ নামাজ বা রোজার বিধান নেই। কোরআন ও সুন্নাহতে এর আনুষ্ঠানিক পালনের নির্দেশ পাওয়া যায় না। পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কাসিদা পাঠ বা মিষ্টি বিতরণের মতো আয়োজন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে চালু হয়েছে।
আলেমরা মনে করেন, মিরাজ উপলক্ষে বিশেষ ইবাদত হিসেবে নতুন কোনো আমল চালু করা বিদআত হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা উৎসাহিত নয়। তবে মুসলিম ইতিহাস স্মরণ, শিশুদের ইসলামের সঙ্গে পরিচিত করা বা নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে, নিজ নিজ ঘরে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযগার, নফল নামাজ এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply