জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট সমঝোতার জন্য ৫০টি আসন খালি রাখলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এককভাবেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে—এমন আভাস মিলছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিম নেতৃত্বাধীন দলটি। সেখানেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, “সারাদেশে ২৬৮টি সংসদীয় আসনে আমাদের দলীয় মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এক-দুটি বাতিল হতে পারে। ইসলামী আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচন করবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা জানান, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ফেরার সম্ভাবনা ‘নেতিবাচক’। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গেও কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানান। এ অবস্থায় ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলকে নিয়ে নতুন জোট গঠনের চিন্তা থাকলেও সেটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে আভাস মিলছে।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “আজ বিকালে আমাদের সংবাদ সম্মেলন রয়েছে। সেখানেই বিস্তারিত জানানো হবে।” সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম বক্তব্য দিতে পারেন এবং তিনিই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আপিল নিষ্পত্তির ধাপে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে যে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ গড়ে ওঠে, তার সূচনা হয় ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে সেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
শুরুর দিকে এই মোর্চায় ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। পরে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি জোটে যোগ দেয়।
তবে এনসিপির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে জোটে বিভক্তি দেখা দেয়। আসন সমঝোতা নিয়েও গত দুই সপ্তাহ ধরে জামায়াতের সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামী আন্দোলন। দেড়শর বেশি আসনের দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র বৈঠকেও যায়নি দলটি।
বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের হিসাব তুলে ধরেন। সেখানে জামায়াতের ভাগে ১৭৯টি আসন দেখানো হলেও ইসলামী আন্দোলন, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য কোনো আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। জামায়াত তখনও আশা করছিল, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে ফিরবে—সে কারণে ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
তবে একই সময় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাদের নির্বাচনী অবস্থান স্পষ্ট করবে। এ বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, “জোটে ফেরার সম্ভাবনা নেগেটিভ। বিএনপির সঙ্গেও কোনো সমঝোতা নেই।”
দলীয় সূত্র জানায়, আসন সমঝোতার পাশাপাশি আরও কিছু রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণেও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে ঐক্য থেকে সরে আসছে ইসলামী আন্দোলন। এসব বিষয়ও বিকালের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হতে পারে।