
কক্সবাজারের চকরিয়া, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীর উভয় তীরে শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা চরে এবার তামাকের বদলে বোরো ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ভূমিহীন কৃষকরা। এতে প্রায় ১৫ হাজার টন ধান উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে মাতামুহুরী নদী ও এর অন্তত ৫০টি শাখা খাল ও ছড়ায় পানির পরিমাণ কমে গিয়ে জেগে ওঠে বালুময় চর। আগে এসব চরে স্থানীয় কৃষকরা তামাক, বাদাম, শিম, আলু ও মিষ্টি লাউ চাষ করতেন। কিন্তু এবার সেই বালুচরেই দরিদ্র কৃষকরা বোরো ধান চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলার কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে চকরিয়া অংশে প্রায় ১০০ হেক্টর চরে বোরো ধান চাষ হয়েছে। একইভাবে লামা ও আলীকদম উপজেলার কুরুপকাতা ঝিরি এলাকায় আরও ২০০ হেক্টর চরে সাথি ফসলের সঙ্গে বোরো চাষ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে নদীর পানি না বাড়ায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
চাষি ওমর আলী জানান, তিনি প্রায় ৪০ শতক চরে বোরো চাষ করে ১ হাজার কেজি ধান পেয়েছেন। এ ধানেই তার পুরো মৌসুমের চাহিদা মিটে যাবে। আরেক কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, “বালু চরে তামাক আবাদ বন্ধ করে সাথি ফসলের সঙ্গে ধান চাষ করা দরকার। এতে জমির ক্ষতি কম হয়, ফলনও ভালো আসে।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের তদারকি কমে যাওয়ায় মাতামুহুরী নদীর চরে আবারও তামাক চাষ বাড়ছে। তামাকের বর্জ্যে নদী ও চিংড়ি ঘেরের পানি দূষিত হচ্ছে, ফলে মাছের মড়ক দেখা দিচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, “আমি যদি আগামী মৌসুম পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলে থাকি, কোনোভাবেই মাতামুহুরী নদীর বালুচরে তামাক চাষ করতে দেব না।”
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply