এই সপ্তাহের শেষের দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিতে পারে। যদিও বর্তমান ২০ শতাংশ শুল্ক কতটা কমানো হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ওয়াশিংটন শিগগিরই বিষয়টি ঘোষণা করার প্রত্যাশা দেখাচ্ছে।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অ-শুল্ক নীতির অনেক উপাদান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বাণিজ্য বাধা কমাতে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে।”
দূত জানান, দাভোসে তিনি একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি, ইউরোপীয় কমিশনার, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) চালুর ফলে আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারছেন। গত আড়াই থেকে তিন মাসে প্রায় ১২ লাখ অফিস ভিজিট কমেছে। ৯০ শতাংশ আবেদন একদিনের মধ্যে এবং ৭০ শতাংশ এক ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে।
বিশেষ দূত জানান, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপালও বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহী। যদিও এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে। পেপাল প্রথমবারের মতো সিনিয়র লেভেলের প্রতিনিধি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে এবং দেশের উদ্যোক্তা, ব্যাংক ও আইসিটি খাতের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছে। লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “তারা পুরো প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া এগোবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক পোটেনশিয়াল এবং উন্নত গভর্ন্যান্সে পেপালের আস্থা বাড়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে গঠিত ইনভেস্টমেন্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির মাধ্যমে এসব সংস্কারের সুফল আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়