
দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমানবন্দরে জনসমুদ্রে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। পরে রাতে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে পৌঁছান।
শুক্রবার দুপুরে তারেক রহমান তার বাবা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে শেরেবাংলা নগরে যান। বেলা ২টা ৫২ মিনিটে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে লাল-সবুজে সাজানো বুলেটপ্রুফ বাসে করে জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক ভিড়ের কারণে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে বাস থেকে নেমে তিনি হেঁটে সমাধিস্থলে প্রবেশ করেন। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তাকে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়।
এরপর বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। পথে তীব্র যানজট ও জনসমাগমের কারণে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। রাত ১০টার দিকে স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তিনি একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১০টার পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তার আগমন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বাইরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান করেন।
শনিবার তারেক রহমান ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন। পরে শ্যামলীতে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিদর্শন করবেন, যেখানে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নেবেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply