ইরানের ওপর ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বছরের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও শক্তিশালী মিসাইল ব্যবস্থা তাদের জন্য বড় হুমকি। এই অজুহাতে তারা বারবার হামলার হুমকি দিয়েছে। গত বছরের জুনে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পায়নি যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে। তবুও ইসরায়েল ও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এই অজুহাতকে তুলি ধরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তি মোকাবিলায় এই হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা মনে করে, ইরানকে দুর্বল না করলে অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও শীর্ষ নেতারা বারবার বলছেন, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার পথ না বেছে নিয়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও ক্ষমতার লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে শান্তি আলোচনার সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
(সূত্র: আলজাজিরা)
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়