হজমশক্তি বাড়াতে কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমাতে ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে জিরা ভেজানো পানি অন্যতম। হজম, প্রদাহবিরোধী ও বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণের কারণে এই সাধারণ মসলাটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। নিয়মিত এক মাস রাতে জিরা ভেজানো পানি পান করলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
জিরা ভেজানো পানি হজমজনিত অস্বস্তি দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর। এটি হজম এনজাইমকে সক্রিয় করে খাবারের ভাঙন প্রক্রিয়াকে সহজ করে। নিয়মিত পান করলে পেট ফাঁপা কমে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যাও প্রশমিত হয়। জার্নাল অফ ফুড সায়েন্স-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, জিরা হজমকারী এনজাইমের কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে, যা মসৃণ হজমে সহায়তা করে।
প্রতিদিন রাতে জিরা ভেজানো পানি শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। জিরায় থাকা বায়ো-অ্যাকটিভ যৌগ খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সহায়ক। যদিও এটি রাতারাতি ওজন কমায় না, তবে নিয়মিত পান করলে শরীর হালকা অনুভূত হয় এবং সামগ্রিক বিপাকক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
জিরা রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রাতে জিরা ভেজানো পানি পান করলে রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগা বা ব্লাড সুগারের দ্রুত ওঠানামা কমতে পারে। জার্নাল অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস-এ প্রকাশিত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জিরা গ্রহণকারীদের রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।
এ ছাড়া এই পানীয় শরীরে প্রশান্তি আনে, যা ঘুমের মানও উন্নত করতে পারে।
জিরার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র্যাডিকেল প্রতিরোধে সহায়তা করে, যা ত্বকের নিস্তেজতা ও ব্রণ কমাতে ভূমিকা রাখে। এক মাস ধরে নিয়মিত জিরা ভেজানো পানি পান করলে ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ অনুভব হতে পারে। উন্নত হজম ও বাড়তি হাইড্রেশন ত্বকের গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।
শরীর স্বাভাবিকভাবেই ডিটক্সিফাই করে, তবে জিরা ভেজানো পানি পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রেখে এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এতে শরীরে হালকা অনুভূতি আসে এবং সারা শরীরে সতেজতা বজায় থাকে।
অনেকে কঠিন ডিটক্স ডায়েটের বদলে সহজ বিকল্প হিসেবে জিরা ভেজানো পানি নিয়মিত গ্রহণ করেন।