স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই ডিবির একাধিক টিম তদন্তে কাজ করছে। তিনি বলেন,
“হত্যার দিন থেকেই আমরা অনেককে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আবার সন্দেহভাজন কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে গুলি করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার তিন দিন পর শনিবার মুছাব্বিরকে গুলি করা সন্দেহভাজন প্রধান শুটারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,
“কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”
তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কারো নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।
মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে তার স্বামী জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন।
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।