ঢাকার আকাশ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হঠাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। অনেকের প্রশ্ন, এটি কি দূষণের কারণে, নাকি সাগরে তৈরি কোনো লঘুচাপের প্রভাব? এই সময়টায় এমন অবস্থা কি এবারই প্রথম দেখা গেল?
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, প্রকৃতিতে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন হচ্ছে এবং একটির সঙ্গে আরেকটি বায়ুপ্রবাহ সংঘাত করছে। বায়ু এ সময় এলোমেলো আচরণ করে। রাতের কম তাপমাত্রা এবং দূষণের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিকেলের শেষ দিকে এবং সকালে সূর্য ওঠার পর আকাশ মেঘলা মনে হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুতে এমন অবস্থার নজির রয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও দূষণ বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘ধোঁয়াশা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। নগরীর দূষণ, হাওয়ার বদল, বাতাসে জলীয় বাষ্প এবং সাগরের লঘুচাপের সীমিত প্রভাব মিলিত হয়ে এই অস্থির আকাশের পরিস্থিতি তৈরি করে।
ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের দূষিত নগরীগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। আজ সকাল ১১টার দিকে বিশ্বের ১২৩টি নগরীর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। বায়ুর মান ২৮৪, যা খুবই দূষিত।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিত ঢাকার বায়ুদূষণের মান প্রকাশ করে। বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’, আর ৩০০ হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নগরীর দূষণের মূল উৎসগুলোর মধ্যে আছে ইটভাটা, কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া। পাশাপাশি আন্তমহাদেশীয় দূষিত বায়ুপ্রবাহও ঢাকায় প্রবেশ করে। ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি, ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এই দূষিত বায়ু ঢাকায় পৌঁছায়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এই দূষিত বায়ুর স্তর আপাতত স্থায়ী হয়ে গেছে।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা বিশ্বের বায়ুদূষণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়