1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

নামাজ পরিত্যাগের ভয়াবহ পরিণতি ও আল্লাহর ক্ষমার আহ্বান

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের সর্বোচ্চ নিদর্শন হলো নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ পরিত্যাগ করে, সে আসলে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মানুষ ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ।” (মুসলিম : ৮২)। অর্থাৎ নামাজ ছেড়ে দেওয়া মানে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া।

কোরআনে নামাজ না পড়ার শাস্তি

১. সুরা মরিয়ম (১৯:৫৯):
“তাদের পর এমন এক প্রজন্ম এলো, যারা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। তারা শিগগিরই গোমরাহির শাস্তির সম্মুখীন হবে।”

২. সুরা মুদ্দাসসির (৭৪:৪২-৪৩):
“তোমাদের কী জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে?” তারা বলবে, “আমরা নামাজ আদায় করতাম না।”
➡️ এই আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—নামাজ না পড়া জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

৩. সুরা তহা (২০:১৪):
“আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো।”
➡️ নামাজ না পড়া মানে আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।

হাদিসে নামাজ না পড়ার শাস্তি

রাসুল (সা.) বলেছেন,

  • “নামাজ ছেড়ে দিলে মানুষ কুফরির কাছাকাছি চলে যায়।” (মুসলিম : ৮২)

  • “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করে, তার ওপর আল্লাহর কোনো দায়িত্ব নেই।” (ইবনে মাজাহ : ৪০২৩)
    ➡️ অর্থাৎ সে আল্লাহর রহমত ও রক্ষার বাইরে চলে যায়।

আরেক হাদিসে এসেছে,
“কেয়ামতের দিন আল্লাহ প্রথমে নামাজের হিসাব নেবেন। যদি নামাজ ঠিক থাকে, তবে বাকি কাজও ঠিক থাকবে; আর যদি নামাজ নষ্ট হয়, তবে সব কাজই নষ্ট হবে।” (তিরমিজি : ৪১৩)

দুনিয়ায় নামাজ না পড়ার পরিণতি

১. হৃদয়ের কঠোরতা: আল্লাহর ভয় ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।
২. অশান্তি ও হতাশা: নামাজ না পড়লে মন অশান্ত ও অস্থির থাকে।
৩. রিজিকে অবারকতা: রাসুল (সা.) বলেছেন, “নামাজ রিজিক বৃদ্ধি করে।” নামাজ ত্যাগে তার উল্টো ঘটে।
৪. অন্ধকার মৃত্যু: “নামাজ হলো কবর ও আখিরাতে আলো।” (মুসলিম : ২২৩)

পরকালে নামাজ না পড়ার শাস্তি

১. জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়া:
“যারা নামাজ আদায় করে না, তাদের জন্য আফসোস (ওয়াইল)!” (সুরা মাউন : ৪-৫)

২. হিসাবের দিনে ব্যর্থতা:
প্রথম প্রশ্ন হবে নামাজ সম্পর্কে। নামাজ ঠিক না থাকলে সব আমল বাতিল হবে।

৩. চিরন্তন আফসোস:
কেয়ামতের দিন তারা বলবে, “হায়! যদি আমি নামাজ আদায় করতাম, তাহলে আজ এই অবস্থা হতো না!”

ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রহ.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করে, সে কাফের।” (আল-মুগনি, খণ্ড ২, পৃ. ৪৪৩)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন,
“যে নামাজ ছেড়ে দেয়, তাকে তওবা করতে বলা হবে; তাওবা না করলে শাস্তি দেওয়া হবে, তবে কাফের গণ্য হবে না।” (ফাতহুল কাদির, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৪)

ইমাম শাফেয়ি ও মালেকি মত অনুযায়ী,
“নামাজ না পড়া বড় গুনাহ, তবে ঈমান অস্বীকার না করলে সে ইসলাম থেকে বের হয় না।” (আল-মাজমু, খণ্ড ৩, পৃ. ১২)

নামাজ ত্যাগকারীর জন্য উপদেশ

আল্লাহর দরজা সর্বদা খোলা। যে ব্যক্তি তওবা করে নামাজে ফিরে আসে, আল্লাহ তার অতীতের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন।
আল্লাহ বলেছেন,
“হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করেন।” (সুরা জুমার : ৫৩)

নামাজ শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়—এটি মুসলমানের জীবনের মেরুদণ্ড
যে নামাজ পড়ে, সে আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকে; আর যে নামাজ ত্যাগ করে, সে নিজের জীবনের আলো নিভিয়ে দেয়।

তাই আসুন, আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করি—আমরা নিয়মিত নামাজ আদায় করব। কারণ নামাজই আমাদের দুনিয়ার শান্তি ও কবরের আলো।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!