ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে সাংবিধানিক গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ চলে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে দল বেঁধে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
গণভোটের ফলাফল
নির্বাচন কমিশন জানায়, গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬টি, যা মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট।
গণভোটে চারটি মূল বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। বিষয়গুলো হলো—
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট; উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণসহ ৩০টি সংস্কার বাস্তবায়ন।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা।
নির্বাচনের ফলাফল
নির্বাচন শেষে রাতেই ভোট গণনা শুরু হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা জেলা ও কেন্দ্র থেকে ফলাফল ইসিতে পাঠাতে থাকেন। বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন আংশিক ফলাফল ঘোষণা শুরু করে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই শতাধিক আসনে জয়লাভ করেছে। তবে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় ওই দুই আসনের ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে যে কোনো মানদণ্ডে এবারের নির্বাচন ভালো হয়েছে। তার মতে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতা এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়