দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামীকাল (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। তবে আপাতত সেখানে রাত্রিযাপন করা যাবে না।
গত বছরের মতো এবারও সেন্টমার্টিনে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পর্যটকদের সরকারের ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক সমাগম ও পরিবেশ দূষণের কারণে দ্বীপটি একসময় গুরুতর সংকটে পড়েছিল। তবে গত ৯ মাস পর্যটক চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পুনরুদ্ধার ঘটেছে। এখন সৈকতে দেখা যাচ্ছে শামুক-ঝিনুকের বৃদ্ধি, লাল কাঁকড়ার চলাচল এবং মা কাছিমের ডিম পাড়ার পরিবেশ।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পর্যটকদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে—
১. নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের বেলা ভ্রমণ অনুমোদিত।
২. ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
৩. ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পূর্ণভাবে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
৪. প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন।
৫. সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ।
৬. কেয়াবনে প্রবেশ ও কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ।
৭. কাছিম, শামুক-ঝিনুক, প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৮. মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ মোটরচালিত যান চলাচল বন্ধ।
৯. নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না।
১০. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
১১. ব্যক্তিগত পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের নিবাস সেন্টমার্টিন, যার মধ্যে রয়েছে প্রবাল, শৈবাল, কাছিম, সামুদ্রিক মাছ, রাজকাঁকড়া, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী। অতিরিক্ত মানবচাপের কারণে এসব প্রজাতি ঝুঁকিতে পড়েছিল।
সরকার আশা করছে, নতুন নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মেনে চললে সেন্টমার্টিন একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্যের আন্তর্জাতিক উদাহরণ হয়ে উঠবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, “প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় এবার নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এবার পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে, টেকনাফ ঘাট থেকে নয়।