
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। সংস্থাটি বলেছে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না। সোমবার জেনেভায় রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় কথা বলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় গত বছরের জুলাই আন্দোলনে দমন-পীড়নের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যদিও তারা এ বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবুও মানবতাবিরোধী অভিযোগে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের গুরুত্ব বরাবরই তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনা এবং সেই বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো প্রেক্ষাপটেই মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘ দুঃখ প্রকাশ করে।
রায়ের পর পৃথক এক বিবৃতিতে মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন রোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে নিরাপত্তা খাতে অর্থবহ সংস্কার জরুরি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তাঁর সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দেড় দশক দেশ শাসনের পর গত বছরের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যিনি আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন।
উল্লেখযোগ্য হলো, যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে গঠন করেছিল, সেই একই আদালত থেকেই এ বার তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার রায় এল। এই ট্রাইব্যুনালে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply