ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং উল্টো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা গেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনের শুরুর লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ইউএস ক্রুডের দাম ৩৬ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ দশমিক ৯৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করে নিউইয়র্কের আদালতে নেওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হলেও অর্থবাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। পুঁজিবাদী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ থমাস ম্যাথিউ এক প্রতিবেদনে বলেন, এই ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হলেও অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে।
তেলের দরপতন থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, অপরিশোধিত তেলের বাজারে একসময়কার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার যে তীব্র প্রভাব দেখা যেত, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেকটাই কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতির নজির গত বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ও দেখা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর জানান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটিতে গিয়ে ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং উৎপাদন বাড়িয়ে অন্যান্য দেশে তেল রপ্তানি করবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে এবং দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে তেলের সরবরাহ ইতোমধ্যেই বেশি থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, তেলের দাম কমলেও মাদুরোকে আটকের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণবাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ায় এর দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আউন্সপ্রতি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৪,৪৩৩ মার্কিন ডলারে। একই সঙ্গে রূপার দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।