ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লালমনিরহাট ও চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২৮ জন এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপি মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
লালমনিরহাট-১ আসনের হাতীবান্ধা উপজেলায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কাসাইটারী এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ জানায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর কর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়িতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জামায়াত প্রার্থী হামলার অভিযোগ করলেও বিএনপি প্রার্থী তা অস্বীকার করেন। হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমান উল্লা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হন। এর মধ্যে বিএনপির ৮ জন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার জুগীরহুদা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের পক্ষে নারী কর্মীরা প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, বিএনপির হামলায় জামায়াতের নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকাল ৫টা থেকে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকরা লিফলেট বিতরণকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় হামলায় এক কর্মী গুরুতর আহত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির কার্যালয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো থমথমে থাকলেও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়