ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে আফগান পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আশ্রয় আবেদনসহ সব ধরনের অভিবাসন সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয়। শনিবার রোববার (৩০ নভেম্বর) রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, আফগান পাসপোর্ট ব্যবহারকারীদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালের নাম প্রকাশের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের কাছে টহলরত অবস্থায় পশ্চিম ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সারাহ বেকস্ট্রম ও অ্যান্ড্রু উলফের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে বেকস্ট্রম নিহত এবং উলফ গুরুতর আহত হন।
সিআইএ নিশ্চিত করেছে—২০২১ সালে পশ্চিমা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পরপরই লাকানওয়াল যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং তিনি আফগানিস্তানে সিআইএর হয়ে কাজ করেছিলেন। ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সশস্ত্র অবস্থায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একইদিন মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) জানায়, ‘মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা’ রক্ষার স্বার্থে সব আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তও স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলো বলেছিলেন, ট্রাম্পের নির্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে জন্মগ্রহণকারী সব বিদেশির গ্রিনকার্ড আবারও পর্যালোচনা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড আবেদন পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। পরে তিনি জানান, ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে অভিবাসন সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছেন, যদিও তিনি শব্দটির নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেননি।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে সহায়ক নন বা ‘দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম’ এমন যেকোনো ব্যক্তিকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, দেশের শান্তি বিঘ্নকারী অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ বিদেশিদের বহিষ্কার করা হবে।
গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি শুরু করেছেন। গত অক্টোবরে তিনি ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণ করবে—যা ১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন সংখ্যা।