ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে জোটভিত্তিক হিসাব-নিকাশ জোরালো হলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?
২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও এখনো কোনো একক শীর্ষ নেতার নাম ঘোষণা করেনি জোটটি। বরং যৌথ নেতৃত্বের কথাই বলা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রম।
প্রায় দুই হাজার প্রার্থী নির্বাচনে থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াতসহ নতুন ১০ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপিতে নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে তারেক রহমানের হাতে থাকলেও জামায়াত-সমর্থিত জোটে নেতৃত্বের প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত।
জোটে পাঁচটি ইসলামপন্থী দল ও পাঁচটি ভিন্নধারার রাজনৈতিক দল রয়েছে। ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে শক্তিশালী। এবারের নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ২১৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে এনসিপি লড়ছে মাত্র ৩০টি আসনে।
নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সংসদে যাদের আসন বেশি হবে, তারাই নেতৃত্বে অগ্রাধিকার পাবেন।
যদিও প্রকাশ্যে নেতৃত্বের দাবি করছে না জামায়াত, তবে জোটের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি যে তারাই—এ কথা স্বীকার করছেন শরিক দলগুলোর নেতারাও। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচনের ফলাফলের পরই নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
জোটের দাবি, ‘জুলাই স্পিরিট’, সংস্কার, বিচার ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানই তাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি। শরিয়া রাষ্ট্র প্রসঙ্গে জোট বলছে, এমন কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই এবং সবকিছু হবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই।
সব মিলিয়ে নেতৃত্বের অস্পষ্টতা সত্ত্বেও জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট বিএনপির জন্য কতটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবে—তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনের ফলই।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়