ইসলাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সুশৃঙ্খল, অর্থবহ ও বরকতময় করে তোলার জন্য বিভিন্ন আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। দিনের শুরুতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসৃত আমলগুলো একজন মুসলিমের জন্য উত্তম আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। হাদিসের আলোকে তার সকালবেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো।
ঘুম থেকে জেগে সর্বপ্রথম তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করতেন। তিনি এ দোয়া পাঠ করতেন—
"আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা'দা মা আমা-তানা, ওয়া ইলাইহিন নুশুর।"
অর্থ: "সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। তিনি আমাদের মৃত্যুসদৃশ ঘুমের পর আবার জীবন দান করেছেন এবং তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১২)
এরপর তিনি মিসওয়াক করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ পরিষ্কার ও ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য তিনি মিসওয়াক ব্যবহার করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৫)
মিসওয়াকের পর তিনি ওজু করতেন এবং ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। ওজুর সময়ও তিনি আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৪)
রাসুল (সা.) ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতেন। নামাজ শেষে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় অতিবাহিত করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭০)
এ বিষয়ে একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে ব্যস্ত থাকে এবং পরে দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ আদায় করে, সে একটি পূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণ ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)
সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি দুই বা চার রাকাত ইশরাকের নামাজ আদায় করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২০)
সকালের খাবারেও তিনি পরিমিতির শিক্ষা দিয়েছেন। বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, তিনি অনেক সময় খেজুর ও পানি দিয়ে দিনের শুরু করতেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতেন এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৮)
এ ছাড়া তিনি প্রতিদিন সকালে নিয়মিত কিছু দোয়া ও জিকির পাঠ করতেন। এর মধ্যে ছিল "আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ", আয়াতুল কুরসি এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৩)
ইসলামি শিক্ষায় দিনের শুরুতে আল্লাহর স্মরণ, পরিচ্ছন্নতা, সালাত, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব আমল একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা, মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহায়ক বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
You cannot copy content of this page