1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের গভীর শোক

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম ও জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্তির অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে মানুষ।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল দেশকে পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

শোকবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে তিনি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে এক মাইলফলক স্থাপন করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেও তিনি বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন।

শোকবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তার আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং যার যার অবস্থান থেকে মরহুমার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!