1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক জয়, তবে প্রেসিডেন্ট হওয়া অসম্ভব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫

নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি— যা মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এখন পরিবর্তনের প্রতীক: আত্মবিশ্বাসী, স্পষ্টভাষী ও নীতিনিষ্ঠ একজন নেতা। অনেকেই তাঁকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ক্যারিশম্যাটিক ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন।

তবে যত জনপ্রিয়ই হোন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানগত এক অনিবার্য কারণে জোহরান মামদানি কখনও প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।

মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের প্রথম ধারা অনুযায়ী, “একজন স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য হবেন না।” অর্থাৎ, কেউ যদি জন্মের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হন— যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বা আমেরিকান পিতামাতার ঘরে জন্ম না নেন— তবে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

জোহরান মামদানি ১৯৯১ সালে উগান্ডার কাম্পালায় ভারতীয়-উগান্ডান পিতামাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। কিন্তু তিনি “স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক” নন, বরং স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হয়েছেন। তাই সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর প্রার্থিতা সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব।

এই একই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক কিংবা সাবেক ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এখন সেই তালিকায় যোগ হলো জোহরান মামদানির নামও— প্রশংসিত, প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় হলেও ওভাল অফিসের দোরগোড়ায় তাঁর পদচারণা নিষিদ্ধ।

তাত্ত্বিকভাবে সংবিধান সংশোধন করে এই বিধান পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব। ২০০৩ সালে রিপাবলিকান সিনেটর অরিন হ্যাচ “ইক্যুয়াল অপরচুনিটি টু গভার্ন অ্যামেন্ডমেন্ট” নামে এমন একটি প্রস্তাব তুলেছিলেন, কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। এই বিধান পরিবর্তনে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ অনুমোদন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর তিন-চতুর্থাংশের সমর্থন প্রয়োজন— যা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা বিদেশি প্রভাব থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই শর্ত যুক্ত করেছিলেন, এবং দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পরও সেটি বহাল রয়েছে। জনপ্রিয়তা বা প্রভাব যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে হলে “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব” এখনও একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক শর্ত— যা জোহরান মামদানিকে আমেরিকার সর্বোচ্চ পদ থেকে চিরতরে দূরে রেখেছে।

Share This Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!