যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আমবটতলা বাজার এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৫ শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কেমিকৌশল বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী প্রজেক্টের কাজে বাজারের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে গেলে দোকানি তাকে উত্ত্যক্ত করে। বিষয়টি তিনি সহপাঠীদের জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী দোকানে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে দোকানিকে তারা মারধর করলে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গ্রামবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। দ্রুতই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ঢিল ছোড়াছুড়ি চলে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।
সংঘর্ষ তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে, কারণ এর মধ্যে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে মেডিকেল সেন্টারে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ওমর ফারুক বলেন, এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। শিক্ষক ও প্রক্টোরিয়াল টিম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেরিতে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টোরিয়াল টিম স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাত ৯টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়