শীতকাল এলেই সর্দি–কাশি ও জ্বর বাড়ার পাশাপাশি আরেকটি নীরব ঝুঁকি দেখা দেয়—রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে খাবার–দাবারের অনিয়ম, ব্যায়ামের ঘাটতি এবং উৎসব-অনুষ্ঠানের ব্যস্ততার কারণে ওজন বেড়ে যায়, যা এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়িয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বিয়ে-অনুষ্ঠান ও পারিবারিক দাওয়াতের কারণে তেল–চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়, আর ঠান্ডার কারণে অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না—এ দুইয়ের প্রভাবেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এই সময়ে খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো খুব জরুরি। ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকরভাবে কাজ করে, একই সঙ্গে রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই ভারী খাবারের সঙ্গে অবশ্যই তাজা শাকসবজি ও ফল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মাছ, আখরোট ও চিয়া সিডের মতো খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সরবরাহ করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শীতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম একটি অপরিহার্য অভ্যাস। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। এর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে সংযম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল–চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চললে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। মদ্যপান কোলেস্টেরল বাড়াতে ভূমিকা রাখে, তাই এ অভ্যাস থেকেও দূরে থাকা উচিত। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন শীতকালে একাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়