
পৌষের মধ্য ভাগে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে শীতের দাপট কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। গত শনিবার থেকে সূর্য মেঘের আড়ালে থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর সঙ্গে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকায় হাড় কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে পুরো এলাকায়।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীতের প্রকোপে দিনমজুর শ্রেণির মানুষ ঠিকমতো কাজে যেতে না পারলেও ফসল বাঁচাতে কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে। ভুট্টা, আলু, গম ও সরিষার ক্ষেতে সার, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত থাকলেও তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে তাদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভেলাতৈড় গ্রামের দিনমজুর নবিরউদ্দীন বলেন, শীতের কষ্ট সত্ত্বেও পেটের দায়ে কাজে যেতে হচ্ছে। নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক রঞ্জিত কুমার রায় জানান, তীব্র শীতে বোরো বীজতলা রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সূর্যের দেখা না পাওয়া, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে বীজতলার চারা হলুদ হয়ে রোগাক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে শীত বাড়ায় বাজারে শীতবস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে গরিব ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে একটি সাধারণ পুরাতন সুইটার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি, কাশি ও হাঁপানি রোগের প্রকোপও বেড়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, প্রতিদিন ইনডোরে ৮–১০ জন শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি আউটডোরে ৪০–৫০ জন সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আলহাজ্ব মোবারক আলী চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আরও ১ হাজার ১০০ কম্বল দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ৬ হাজার কম্বলের চাহিদার বিপরীতে ২ হাজার ৭৮৫টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে শীতবস্ত্র কেনা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় সব ধরনের ব্যয় সীমিত করা হয়েছে। ফলে এবার উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে কম্বল কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply