ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসব ও বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঈদ উৎসব উদযাপন কমিটি–২০২৬ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উৎসবের প্রতীক। সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোঘল আমলেও ঈদের দিন হাতি, ঘোড়া ও বাদ্যযন্ত্রের সুরে বর্ণাঢ্য মিছিল বের হতো, যা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উদ্যাপিত হতো।
তবে ঔপনিবেশিক শাসন ও সাংস্কৃতিক দমনের কারণে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। আয়োজকদের দাবি, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই সাংস্কৃতিক চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর রাজধানীতে আয়োজিত ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
এবার ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিনদিন বিভিন্ন আয়োজন থাকবে।
চাঁদরাত: রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে। এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারবেন। থাকবে ঈদের গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
ঈদের দিন: সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহ (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে ঝটিকা মিছিল নিয়ে মানুষ এতে যোগ দেবেন। সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগও থাকবে।
ঈদের পরদিন: ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসব।
ঈদ মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি থাকবে। শিশু-কিশোরদের জন্য মিছিলে বিশেষ কিডস জোন রাখা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, নাগরিক উদ্যোগে এই উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তা ও স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের অংশগ্রহণ আহ্বান করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়