
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, লঘুচাপটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, লঘুচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেলে স্থলভাগে উঠে যেতে পারে। এরপর এটি আরও ঘনীভূত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর সর্বোচ্চ প্রভাব ভারতের ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লঘুচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হলে স্থলভাগে উঠে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাগর এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।