1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন

শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের শিক্ষা কাঠামোর সংস্কার, নতুন কারিকুলাম, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এসব বিষয়ের মাধ্যমে রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এসএসসি ফলাফলে ‘কৃত্রিম জিপিএ-৫’ বন্ধের দাবি

সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানো এবং পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পাস করানোর মতো ঘটনা ঘটত বলে সরকার মনে করে। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসএসসিতে অকৃতকার্য বা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না। তাদের জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব তরুণকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে। পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষকদের হাতে দেওয়া হবে ডিজিটাল ট্যাব

শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণায় জোর, ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নত করতে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণায় সরকারি বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা জানান মাহদী আমিন।

গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমাতে জাতীয় প্রতিযোগিতা

গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা। এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হবে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়; দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করছে।

সূত্র: বাসস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page