
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী মাছের ওজনের চেয়ে প্রায় অর্ধেক ওজনের মাছ সরবরাহের অভিযোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য বেশ কিছু ছোট আকারের মাছ রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রে দেখা যায়, নাড়িভুঁড়ি ও আঁশ ছাড়ানোর আগেই মাছগুলোর ওজন প্রায় ৪৯৫ গ্রাম থেকে ৫০০-৬০০ গ্রামের মধ্যে। রান্নাঘরের একটি বালতিতে এ ধরনের প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ রাখা ছিল।
হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের এমন আকার হওয়ার কথা, যাতে নাড়িভুঁড়ি বাদ দেওয়ার পর ড্রেসড অবস্থায় ওজন কমপক্ষে এক কেজি থাকে। সে হিসাবে সরবরাহ করা মাছের ওজন নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কম বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত ওজনের মাছ বাজারে পাওয়া না গেলে কম ওজনের মাছ সরবরাহের সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে মেনু পরিবর্তন করে সমমানের বিকল্প খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব রান্নাঘরে গিয়ে নিজ উপস্থিতিতে মাছগুলোর ওজন পরিমাপ করেন। নির্ধারিত ওজনের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়ার পর তিনি সরবরাহ করা মাছগুলো বাতিল ঘোষণা করেন।
পরে মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাতিল করা মাছগুলো প্যাকেট করে ঠিকাদারকে ফেরত নিয়ে যেতে দেখা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সজল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর চাচা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। রোগীদের খাবারের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। মাছ দেওয়ার দিন ছোট আকারের মাছ দেওয়া হয় এবং মাথা-লেজসহ মাছ সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রোগীদের খাবারে অনিয়ম বন্ধে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরএমও ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, মেনু ও নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী মাছ না থাকায় সরবরাহ করা মাছগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি জানতে পেরেছেন। খবর পাওয়ার পর ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফোন করে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের খাবার সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।