
হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে দুই দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগের পর এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিধ্বস্ত অবকাঠামো ও পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকায় আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, গত বুধবারের আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন। চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
গত বুধবার চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী অববাহিকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সূত্র জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকসহ ৫৮৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮৭ জন ভারতীয় নাগরিক।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারতীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল রোববার কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, নেপালে মানবিক সহায়তা হিসেবে নতুন করে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।