1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন। নদী নারায়ণপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর হয়ে গাইবান্ধা ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদে গিয়ে যমুনা নদ নামে পরিচিত।

স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণপুর থেকে রাজিবপুর পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ১৯৫০ সাল থেকে চলমান ভাঙনে বদলে গেছে জনপদের ভূগোল ও মানুষের জীবনচিত্র। নদী ভাঙনের কারণে নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বহু ইউনিয়ন কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। কয়েক লক্ষ মানুষ বারবার বসতভিটা হারিয়ে নতুন ঠিকানার সন্ধানে বাধ্য হয়েছেন। কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিপুল সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীর সংরক্ষণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুর উপজেলার প্রায় ১৬.৩০৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের সম্ভাব্য মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প অনুযায়ী উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা এলাকায় ৬.৫০ কিলোমিটার, হবিগঞ্জ বাজার ও নামাজের চরে ৪.৫৫ কিলোমিটার, সোনাপুর, ঘুঘুমারি ও সুখের বাতি এলাকায় ৬ কিলোমিটার, রৌমারীর ফুলুয়ার চরঘাট এলাকায় ১.৪ কিলোমিটার এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি, হাজীপাড়া ও চর নেওয়াজী এলাকায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদী ভাঙনের কারণে বহু পরিবার বারবার বসতভিটা হারিয়ে মানবিক ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগে পড়েছে। উলিপুরের সাহেবের আলগা এলাকার আব্দুল মালেক (৬৫) বলেন, “এই নদী আমার সব শেষ কইরা দিছে। জীবনে ছয়বার ঘর বানাইছি, ছয়বারই নদীতে গইছে।” রাহেলা খাতুন (৪০) বলেন, “বাপের বাড়ি নাই, স্বামীর বাড়ি নাই। নদী সব নিয়া গেছে। দুইটা বাচ্চা নিয়ে অন্যের জমিতে থাকি।” রৌমারীর ফুলুয়ার চর এলাকার আব্দুল গফুর (৫০) জানান, “আমার ১০ বিঘা জমি ছিল, এখন কিছুই নাই। নদী সব খাইয়া ফেলছে। এখন দিনমজুরি করি।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে পুরো ইউনিয়ন বিপর্যস্ত। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে।” রৌমারী উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, “ফুলুয়ার চর এলাকা সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার। বহু পরিবার চলে গেছে।” কোদালকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, “হাজীপাড়া ও চর নেওয়াজী এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ। আগামী বন্যার আগে ব্যবস্থা না নিলে শত শত পরিবার গৃহহীন হবে।”

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “ব্রহ্মপুত্র একটি অস্থির নদী। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ মিটার করে তীর ভেঙে নদী প্রশস্ত হচ্ছে। সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে, মানুষ দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেজিংও জরুরি।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “বাম তীরের ঝুঁকিপূর্ণ ১৬.৩০৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রোধে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা সম্ভব।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ এবং চরাঞ্চলের জনজীবনে ফিরবে স্থিতিশীলতা।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!