১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ ছুটির সময়ে ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটিতে সব ব্যাংককে তাদের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সেবা স্বাভাবিক থাকবে।
নির্বাচনী ছুটির সময়ে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের হিসাবে তাৎক্ষণিক আন্তঃব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ নির্দেশনা জারি করে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও এনপিএসবি’র আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) লেনদেন সীমিত থাকবে এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে P2P লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময় বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সব এমএফএস সেবায় একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করে মোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাঠানো যাবে। তবে কেনাকাটার পেমেন্ট (মার্চেন্ট পেমেন্ট) ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ আগের নিয়মেই চালু থাকবে।
নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক ও এমএফএস প্রোভাইডারগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। উল্লেখ্য, নির্বাচন উপলক্ষে ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটি থাকবে, যার মধ্যে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়