
লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানে জেলার ছয়টি থানা এলাকা থেকে মোট “২৪৪ জনকে আটক” করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের সরাসরি নির্দেশনায় জেলার ছয়টি থানার থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত বেশি এমন বিভিন্ন স্পট চিহ্নিত করে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪২ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রায়পুর থানায় ৪৪ জন, রামগঞ্জ থানায় ৩৭ জন, রামগতি থানায় ৪৪ জন এবং কমলনগর থানায় ৫৬ জনকে আটক করা হয়। ছয় থানায় আটকের সংখ্যা মোট ২৪৪ জন।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক, বাজার ও কিশোরদের আড্ডাস্থলে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই করেন। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৪৪ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী।
তিনি বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে কোনোভাবেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। লক্ষ্মীপুরে কিশোর অপরাধ নির্মূল করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
পুলিশের কর্মকর্তা আরও জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু অভিযান নয়, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয়দের সচেতন ভূমিকা রাখারও প্রয়োজন রয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানকে নজরদারির আওতায় রাখা হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।