কক্সবাজার-এর খুরুশকুল এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি রাতে ট্রাকভর্তি মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পাহাড় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং আরও অনেক পাহাড় বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটায় পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
পাহাড় কাটা বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও তাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বন বিভাগ—এমন অভিযোগও উঠেছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা ঘুষের বিনিময়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে খুরুশকুল বনবিট কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সীমিত জনবল থাকায় রাতে অভিযান চালানো কঠিন। এছাড়া পাহাড়খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও ঝুঁকি রয়েছে। তবে কিছু অবৈধ মাটি কাটার স্থান বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি, আপারেজুসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বনভূমির শতাধিক একর জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বনজ সম্পদ ধ্বংস করে সেখানে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে যেসব পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখা যেত, এখন সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। দিন-রাত নির্বিচারে পাহাড় কাটা চললেও কেউ বাধা দিতে পারছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়খেকোরা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও জমি দখল করে যাচ্ছে। দ্রুত এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে কক্সবাজারের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়