পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যা মামলায় দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়। ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার দুই শুটার কুত্তা ফারুক ও রবিন সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তাদের সঙ্গে সহযোগী রুবেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুইজনের নাম এখনো জানা যায়নি।
তিনি আরও জানান, সোমবার (১০ নভেম্বর) নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তারা সিলেটের মৌলভীবাজার দিক থেকে পালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে ডিবির একটি দল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে দুটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, সোমবার সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে। আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে মামুনকে গলি থেকে মূল সড়কের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ২০ সেকেন্ড পর তাকে দৌড়ে ফিরতে দেখা যায়, এ সময় দুই শুটার পেছন থেকে গুলি চালাতে থাকে। তারা মামুনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং অস্ত্র কোমরে গুজে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি কারাভোগের পর ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান তারিক সাইফ মামুন। জামিনের তিন মাস পর তেজগাঁওয়ে তার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে এক পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত মামুন ছিলেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ‘ইমন-মামুন’ গ্রুপের অন্যতম প্রধান। তিনি একসময় কারাবন্দি সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইমন ও মামুন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়