রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, গোয়ালন্দ ও আরিচা ফায়ার স্টেশনের ইউনিট এবং ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পানির নিচে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি তোলার চেষ্টা চলছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেছে, যার ফলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরুতেও বিলম্ব হয়েছে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী আবদুল আজিজুল জানান, তিনি কালুখালী থেকে বাসে উঠেছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
জানা গেছে, বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায় এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়