1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

সুন্দরবনের প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলছে ‘প্রেরণা’

লাইফ স্টাইল ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

সুন্দরবন-সংলগ্ন প্রান্তিক জনপদে একসময় দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপদ পানির সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এসব সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নারীদের জীবনে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বয় করে কাজ করছে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা’।

২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি, স্বাস্থ্যসচেতনতা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংস্থাটির উদ্যোগে অনেক নারী এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, হস্তশিল্পী ও পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। এতে পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।

WSI প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২০০ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করেছে প্রেরণা। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন, বিপণন, বাজার সংযোগ ও ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন ও বিক্রি, আচার ও চিপস তৈরি, কাপড়ের ব্যবসা, দোকান, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, বীজ ভাণ্ডার ও গ্রামভিত্তিক বীজ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছেন নারীরা। বনজীবী নারীদের তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বনজীবী মার্কেট’।

সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন ও বাজারজাতের পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে প্রেরণা। এতে একদিকে উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে নারীদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, আইনি সহায়তা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, জেন্ডার সমতা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশেও বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

বর্তমানে প্রায় ১৫ জন ‘দুর্বার কন্যা’ নিজ নিজ এলাকায় কিশোরীদের অধিকার রক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক পরিবর্তনের কাজে যুক্ত রয়েছেন।

Plan International-এর সহযোগিতায় মুগলগঞ্জ ইউনিয়নে ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণ নারীদের নিয়ে একটি প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং যুব ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়ে এখানে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, কিশোরীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কী কাজ হবে, কোথায় হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা নিরাপদ পানির সংকট। এ সমস্যা মোকাবিলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর পুনঃখনন, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (PSF), পানি শোষণ ব্যবস্থা এবং কমিউনিটিভিত্তিক নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা চালু করেছে প্রেরণা। এর মাধ্যমে শত শত পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছে।

Wetlands International-এর সহযোগিতায় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার, পুকুর পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও কাজ করছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া CNRS-এর নেতৃত্বে B4RI প্রকল্পের আওতায় কয়রা ও দাকোপে নারীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে মূলধারায় আনা, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সংযোগ এবং ব্র্যান্ডিং নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

CJRF প্রকল্পের মাধ্যমে মুক্তা ও অন্যান্য বনজীবী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কাজ করছে প্রেরণা। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সুন্দরবন মিউজিয়াম।

Sundarban Coalition-এর আওতায় ১৬টি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কমিউনিটির চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রেরণা। রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, টয়লেট, কৃষি উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগে উপকূলের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

Educo International-এর সহযোগিতায় নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, অ্যাডভোকেসি, দক্ষতা প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করছে সংগঠনটি।

APWLD-এর সহযোগিতায় গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্লু ইকোনমির প্রভাবে উপকূলীয় নারীদের ভূমি অধিকার, জীবিকা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব নিয়েও কাজ করছে প্রেরণা।

প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, পরিবর্তনের জন্য কাজ করা নারীদের অনেক সময় কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মর্যাদা নিয়েও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তবে সত্য, সততা ও মানুষের আস্থা যেকোনো অপপ্রচারের চেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “প্রেরণার পথচলা হাজারো নারীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প। যত বাধাই আসুক, সুন্দরবনের মানুষ এবং নারীর অধিকারের জন্য আমাদের এই পথচলা থামবে না।”

শম্পা গোস্বামীর মতে, নারী নেতৃত্বে থাকলে অনেক সময় তাকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই বাধা অতিক্রম করেই নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করার এই প্রত্যয় নিয়েই প্রেরণা ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চায়।

সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকা, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার এসব উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page