1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি ভবন ঘেরাও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে আইনি জটিলতায় হানি সিং চুয়েটের ভিসি নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য, নাকি যোগ্যতা—প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি রসায়নে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নিয়ম, প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ

দেনমোহর দিতে গড়িমসি করলে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেনমোহর পেতে স্ত্রীকে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। নিকাহনামায় দেনমোহর নির্ধারিত থাকলে আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাতে স্বামী তা পরিশোধের দায় এড়াতে পারবেন না। এমনকি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে গড়িমসি করলে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারবেন বিচারিক আদালত। ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ দেওয়ানি রিভিশন মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে হাইকোর্টের।

বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দেনমোহর আদায়ের জন্য কোনো স্ত্রীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হলে এবং স্বামীর তা পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিলম্ব করলে, মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারিক আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

আদালত বলেন, দেনমোহর স্ত্রীর একটি স্বতন্ত্র আর্থিক অধিকার এবং বিয়ের মাধ্যমে এটি স্বামীর ওপর সৃষ্টি হওয়া একটি বাধ্যবাধকতা। স্ত্রী দাবি করলে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। শুধু নিকাহনামায় বিলম্বিত দেনমোহর উল্লেখ থাকার কারণে তা অনির্দিষ্টকাল পরিশোধ না করার সুযোগ নেই।

তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে এবং কোনো ধরনের চাপ, প্রতারণা বা অন্যায় প্রভাব ছাড়া দেনমোহরের পুরো বা আংশিক অংশ মওকুফ করলে তা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ ধরনের মওকুফের ক্ষেত্রে স্ত্রীর স্বাধীন ও স্বেচ্ছাপ্রসূত সম্মতির প্রমাণ থাকতে হবে। জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া মওকুফ বৈধ বলে গণ্য হবে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই দম্পতির বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর স্বামী তার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০১৭ সালের পর থেকে স্বামী মেয়ের ভরণপোষণও যথাযথভাবে দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর স্ত্রী দেনমোহর, ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ এবং মেয়ের বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের জন্য চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। স্বামী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় ২০২২ সালের ৫ মে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়।

ডিক্রিতে স্বামীকে ১৮ লাখ টাকা দেনমোহর, ইদ্দতকালীন তিন মাসের ভরণপোষণ বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং মেয়ের অতীতের ভরণপোষণ বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতি বছর এ অর্থের ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির কথাও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

ডিক্রি কার্যকরের জন্য স্ত্রী একই বছর চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেন। পরে স্বামী মামলার খবর পেয়ে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন করেন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ওই এক্সিকিউশন মামলায় জামিন নেন। তবে আবেদনটি নিষ্পত্তির আগেই তিনি আপিল করেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা জজের পঞ্চম আদালত ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আপিল খারিজ করে পারিবারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন।

হাইকোর্টে স্বামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিম্ন আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি এবং তিনি মামলার সমনও পাননি। তার আইনজীবী জানান, ডিক্রির ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে তিনি ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। ব্যবসা হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ায় বাকি টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে মাসিক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ চাওয়া হয়।

অন্যদিকে স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, নিম্ন আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। স্বামী পুনরায় একই বিষয় তুলে ধরে মামলাটি দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন এবং তার আর্থিক অক্ষমতার দাবিও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

রায়ে ইসলামী শরিয়াহর বিধান ও পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে দেনমোহরের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আদালত বলেন, দেনমোহর কোনো সাধারণ বা ঐচ্ছিক উপহার নয়; এটি স্ত্রীর আর্থিক অধিকার এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামীর ওপর সৃষ্টি হওয়া দায়। স্ত্রী স্বেচ্ছায় কোনো অংশ মওকুফ না করলে স্বামী তা ফেরত নেওয়ার অধিকার রাখেন না।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর নিকাহনামায় দেনমোহর, তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত দেনমোহর এবং পরিশোধিত অর্থের জন্য পৃথক ঘর থাকার বিষয়টিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, স্ত্রী সম্মতি না দিলে শুধু বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে উল্লেখ থাকার কারণে তা অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যাবে না।

বিচারপতি আবদুর রহমান রায়ে বলেন, বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা ঋণের মতো। স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হলে এবং স্বামীর অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা আটকে রাখলে, মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারিক আদালত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

আদালত আরও স্পষ্ট করেন, কোনো আদালত স্ত্রীর দেনমোহর মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। তবে স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় এবং কোনো চাপ বা প্রতারণা ছাড়া দেনমোহরের পুরো বা আংশিক অংশ মওকুফ করতে পারেন।

মামলার ভরণপোষণের অংশেও হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালত বলেন, শিশুর খাবার, বাসস্থান, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় ভরণপোষণের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট স্বামীর রিভিশন আবেদন খারিজ করে দেন এবং নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রিতে হস্তক্ষেপের কোনো আইনগত বা এখতিয়ারগত ত্রুটি পাননি। ফলে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার ডিক্রি বহাল থাকে।

হাইকোর্টে স্ত্রীর পক্ষে শুনানিতে থাকা আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, দেনমোহর পরিশোধের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি স্ত্রীকে হয়রানি করেন, তাহলে বিচারিক আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারেন। তার মতে, রায়ের মাধ্যমে দেনমোহর নিয়ে হয়রানির ক্ষেত্রে নারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে দেনমোহরের সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ মওকুফ করতে পারেন। তবে জবরদস্তি, অযাচিত প্রভাব, প্রতারণা কিংবা স্বাধীন সম্মতিকে ক্ষুণ্ন করে কোনো উপায়ে নেওয়া মওকুফকে বৈধ বলে গণ্য করা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page