নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীপ্রধান পরিবারের নামে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ১৫টি ওয়ার্ডে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ কার্ড দেওয়া হবে। শুরুতে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই ও দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণের পর চূড়ান্তভাবে এসব পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, উপকারভোগী নির্বাচন করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, আয়-ব্যয়, গৃহস্থালি সামগ্রী ও রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি ভাতা পাচ্ছে কি না, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই।
উদ্বোধনী কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়